WhatsApp গ্রুপে OR Telegram গ্রুপে জয়েন্ট করুন
পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu) প্রকল্প। কৃষকদের চাষাবাদের খরচে আর্থিক সহায়তা দেওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুর পর পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া পর্যন্ত, এই প্রকল্প আজ বহু কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। চাষের জমি যত বড় বা ছোটই হোক না কেন, প্রত্যেক নিবন্ধিত কৃষক এর মাধ্যমে ন্যায্য ভাতা পেয়ে থাকেন। এর ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং আর্থিক সহায়তার পরিমাণও আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের চাষাবাদের খরচে সহায়তা করা এবং পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে এই প্রকল্প এখনো সক্রিয়ভাবে চালু আছে। ফলে, গ্রামের কৃষকদের পাশাপাশি ছোট কৃষিজমির মালিকরাও এই সুবিধা পাচ্ছেন।
আরো পড়ুন: অনলাইনে জমির পর্চার জন্য আবেদন ও ডাউনলোড পদ্ধতি
কৃষি খরচে সরাসরি আর্থিক সহায়তা
কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি কৃষক বছরে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পান। এই টাকা দুই কিস্তিতে, খরিফ ও রবি মৌসুমে দেওয়া হয়। যাদের এক একর বা তার বেশি জমি আছে তারা পূর্ণ ১০,০০০ টাকা পান। আর যাদের এক একরের কম জমি আছে তারা জমির পরিমাণ অনুযায়ী অনুপাতে টাকা পান, তবে ন্যূনতম সহায়তা ৪,০০০ টাকা নির্ধারিত। এতে করে ক্ষুদ্র কৃষকরাও ন্যায্য সুবিধা ভোগ করতে পারছেন।
কৃষক মৃত্যুকালীন আর্থিক ভাতা
এই প্রকল্পে শুধু জীবিত কৃষকের চাষাবাদ খরচ নয়, মৃত্যুর ক্ষেত্রেও বড় সহায়তা রয়েছে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনো কৃষকের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। এর ফলে মৃত কৃষকের পরিবারের আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যায় এবং সামাজিক সুরক্ষা বজায় থাকে।
আরো পড়ুন: গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক বাধ্যতামূলক! জানুন কিভাবে করবেন
অতিরিক্ত সুবিধা ও সরকারি সহযোগিতা
এই প্রকল্পে নিবন্ধিত কৃষকরা সরকারি ধান ক্রয় প্রকল্পে বিশেষ অগ্রাধিকার পান। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে অন্য কৃষক-কেন্দ্রিক সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধাও কৃষক বন্ধুতে নিবন্ধিতদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একবার এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করলে কৃষকেরা একাধিক সুবিধা একসাথে পেতে পারেন।
কীভাবে আবেদন করতে হবে?
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করার জন্য প্রথমে কৃষকদের নিজেদের ব্লকের কৃষি দপ্তরের সহকারী পরিচালকের দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। সেখান থেকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, জমির খতিয়ান বা দলিল, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ইত্যাদি জমা দিতে হবে। সব কাগজপত্র যাচাই হয়ে গেলে নাম নিবন্ধন সম্পূর্ণ হয় এবং এরপর থেকেই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যায়।
এছাড়াও, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করার আরেকটি সহজ মাধ্যম হলো ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব।
আরো পড়ুন: পুরানো কাস্ট সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার সহজ পক্রিয়া
কীভাবে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করবেন
আবেদন স্ট্যাটাস জানতেও এখন সহজ অনলাইন ব্যবস্থা আছে। কৃষক বন্ধু সরকারি ওয়েবসাইটে (krishakbandhu.wb.gov.in) গিয়ে “নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য” অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে ভোটার কার্ড, আধার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, কেবিআইডি, মোবাইল নম্বর বা অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর দিয়ে সার্চ করলে আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কিনা তা জানা যাবে।
- প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান – krishakbandhu.wb.gov.in
- হোমপেজ থেকে “নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য” অপশনে ক্লিক করুন।
- এরপর একটি নতুন পেজ খুলবে, সেখানে থেকে যেকোনো একটি অপশন নির্বাচন করুন –
- ভোটার কার্ড
- আধার কার্ড
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর
- কেবিআইডি (KBID)
- মোবাইল নম্বর
- অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর
- নির্বাচিত অপশনের সঙ্গে যুক্ত নম্বর বা আইডি দিন।
- তারপর “I’m not a robot”-এ টিক দিন।
- শেষে সার্চ বোতামে ক্লিক করুন।
যদি আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়ে থাকে, তাহলে পর্দায় সমস্ত বিস্তারিত তথ্য দেখিয়ে দেবে।
- Krishak Bandhu অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: krishakbandhu.wb.gov.in
আমরা এই আর্টিকেলটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu) প্রকল্পের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে কৃষক বন্ধু সম্পর্কিত অপশন থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে লিখেছি। এখানে দেওয়া সমস্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ পাঠকদের জানার সুবিধার্থে পরিবেশন করা হয়েছে। আবেদন, নিবন্ধন বা অন্য কোনো অফিসিয়াল কার্যক্রমের জন্য সর্বদা সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট krishakbandhu.wb.gov.in ভিজিট করুন অথবা নিকটবর্তী কৃষি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।