পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) শিগগিরই রাজ্যের স্কুল গুলির জন্য ক্লার্ক, গ্রুপ-D আর লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ করতে চলেছে। এর বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি খুব তাড়াতাড়ি কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট westbengalssc.com-এ প্রকাশ করা হবে।

WBSSC ক্লার্ক (গ্রুপ-C) পদে আবেদন করার আগে লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস আর পরীক্ষার ধরন ভালো করে জেনে নেওয়া দরকার। এতে বোঝা যায় কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসবে, মোট কত নম্বরের পরীক্ষা হবে, কতগুলো প্রশ্ন থাকবে, নেগেটিভ মার্কিং আছে কি না, আর কত সময় পাওয়া যাবে। আগে থেকে এসব জানলে পড়াশোনা ঠিকভাবে সাজানো যায়, পরীক্ষার সময় টেনশন কমে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে আর ভালো রেজাল্ট করার সুযোগও বেশি হয়।
আরো পড়ুন: WBSSC গ্রুপ-D ও ক্লার্ক নিয়োগ ২০২৫
WBSSC ক্লার্ক পদের সিলেবাস এবং এক্সাম প্যাটার্ন
নিয়োগকারী সংস্থার নাম: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের নাম: http://www.westbengalssc.com
পদের নাম: ক্লার্ক/গ্রুপ-C (আরো আছে)
পোস্ট ক্যাটাগরি: সিলেবাস এবং এক্সাম প্যাটার্ন
WBSSC ক্লার্ক বা গ্রুপ-C পদের নিয়োগ পক্রিয়া
WBSSC ক্লার্ক বা গ্রুপ-C পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। প্রথমে হবে ওএমআর ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা। এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা হবে। তারপর প্রার্থীদের ওরাল ইন্টারভিউ নেওয়া হবে এবং কম্পিউটার টাইপিং ও কম্পিউটার দক্ষতা যাচাই করা হবে। সব ধাপের ফলাফল মিলিয়ে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
WBSSC ক্লার্ক বা গ্রুপ-C পদের এক্সাম প্যাটার্ন
স্কুলের ক্লার্ক পদে লিখিত পরীক্ষা হবে ওএমআর ভিত্তিক, যেখানে নির্দিষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসবে। পরীক্ষায় প্রার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সময় ব্যবস্থাপনা যাচাই করা হবে। এছাড়াও পরীক্ষার ধরনে মোট প্রশ্ন সংখ্যা, নম্বর বণ্টন, নেগেটিভ মার্কিং আছে কি না এবং পরীক্ষার সময়সীমা আগে থেকেই জানা থাকলে প্রস্তুতি আরও সহজ হয়।
- লিখিত পরীক্ষা (ওএমআর ভিত্তিক) – ৬০ মার্কস
- একাডেমিক স্কোর – ১০ মার্কস
- অভিজ্ঞতা – ৫ মার্কস (প্রতিটি সম্পন্ন বছরের জন্য এক নম্বর)
- ওরাল ইন্টারভিউ – ১০ মার্কস
- কম্পিউটার টাইপিং ও কম্পিউটার দক্ষতা – ১৫ মার্কস
মোট নম্বর বা মার্কস: ১০০
আরো পড়ুন: WBSSC গ্রুপ-D পদের সিলেবাস এবং এক্সাম প্যাটার্ন
WBSSC ক্লার্ক বা গ্রুপ-C পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস
ক্লার্ক (গ্রুপ-C) পদে লিখিত পরীক্ষা মোট চারটি বিষয়ে হবে – সাধারণ জ্ঞান, সাম্প্রতিক ঘটনা, সাধারণ ইংরেজি এবং গণিত। প্রতিটি বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে, তাই প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সবগুলো অংশ ভালোভাবে কভার করা দরকার। নিচে প্রতিটি অংশের বিস্তারিত সহজ ভাষায় দেওয়া হলো.
১. সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge): এ অংশে এমন প্রশ্ন আসবে যা প্রার্থীর চারপাশের পরিবেশ, সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত নানা তথ্য জানার ক্ষমতা যাচাই করবে। অর্থাৎ, দেশ-বিদেশের সাধারণ তথ্য, ঐতিহাসিক ঘটনা, প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট—সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
২. সাম্প্রতিক ঘটনা (Current Affairs): এখানে সাম্প্রতিক খবর, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, খেলার দুনিয়া, ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভূগোল, অর্থনীতি, রাজনীতি, ভারতীয় সংবিধান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ নানা বিষয় থেকে প্রশ্ন আসবে। দেশ ও বিদেশ দুই ক্ষেত্রেই সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ওপর ভালো ধারণা থাকতে হবে।
৩. সাধারণ ইংরেজি (General English): এ অংশে প্রার্থীর ইংরেজি ভাষার মৌলিক জ্ঞান যাচাই করা হবে। যেমন, শব্দভাণ্ডার (Vocabulary), ব্যাকরণ (Grammar), বাক্য গঠন, সমার্থক শব্দ (Synonyms), বিপরীতার্থক শব্দ (Antonyms) এবং সঠিকভাবে ইংরেজি ব্যবহারের দক্ষতা।
৪. গণিত (Arithmetic): এ অংশে থাকবে সংখ্যাতত্ত্ব, সহজীকরণ, দশমিক, পুনরাবৃত্ত দশমিক, ভাগের নিয়ম, ভগ্নাংশ, ল.সা.গু (LCM), গ.সা.গু (HCF), অংশীদারি (Partnership), গড় (Average), অনুপাত ও সমানুপাত (Ratio & Proportion), শতকরা হার, লাভ-ক্ষতি, ছাড়, সরল সুদ, সময় ও কাজ, সময় ও দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়ের প্রশ্ন।
এই সিলেবাস অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করলে পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
WBSSC ক্লার্ক (গ্রুপ-C) পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস PDF
WBSSC ক্লার্ক (গ্রুপ-C) পরীক্ষায় ভালো ফল পেতে হলে শুরু থেকেই ঠিকমতো পরিকল্পনা করে পড়া দরকার। প্রতিদিন সময় ভাগ করে সাধারণ জ্ঞান, সাম্প্রতিক ঘটনা, ইংরেজি আর অঙ্ক পড়ে যেতে হবে। পুরনো প্রশ্নপত্র মেলালে বোঝা যায় কেমন প্রশ্ন আসে আর দ্রুত উত্তর দেওয়ার অভ্যাসও হয়। যাদের একই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা নেই, তাদের ইন্টারভিউর জন্য আলাদা করে অনুশীলন করা ভালো, এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে আর নম্বরের ঘাটতিও মিটবে।