জয়েন্ট করুন: WhatsApp গ্রুপ OR Telegram গ্রুপ OR Facebook পেজ
ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (Intelligence Bureau) থেকে জুনিয়র ইন্টেলিজেন্স অফিসার (IB JIO) পদে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। অনেক প্রার্থী ইতিমধ্যেই যোগ্যতা, বয়সসীমা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে শুরু করেছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই পরীক্ষার সিলেবাস, প্যাটার্ন ও সিলেকশন প্রসেস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। কারণ, সঠিক প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষার ধাপগুলো এবং কোন কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা আগে থেকে জানা অত্যন্ত জরুরি।

এই ব্লগে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে, পরীক্ষার ধাপ বা Selection Process, সম্পূর্ণ Exam Syllabus, নির্ধারিত Exam Pattern এবং কোন কোন শহরে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা নিয়ে। এছাড়াও পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
আরো পড়ুন: IB সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পরীক্ষার সম্পূর্ণ সিলেবাস ও প্যাটার্ন!
IB JIO নিয়োগ পক্রিয়া
এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের বাছাই করা হবে তিনটি ধাপে। প্রথমে হবে অনলাইনে লিখিত পরীক্ষা, তারপরে টেকনিক্যাল ভিত্তিক ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং সবশেষে ইন্টারভিউ বা ব্যক্তিত্ব যাচাই। প্রতিটি ধাপের পারফরম্যান্স যোগ করে তৈরি হবে চূড়ান্ত মেধাতালিকা।
নিয়োগের ধাপগুলো হলো:
- Tier-I (লিখিত পরীক্ষা
- Tier-II (স্কিল টেস্ট)
- Tier-III (ইন্টারভিউ/পার্সোনালিটি টেস্ট)
আরো পড়ুন: IB JIO নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন!
IB JIO এক্সাম প্যাটার্ন
এই পরীক্ষায় মোট তিনটি ধাপ রয়েছে এবং প্রতিটি ধাপের আলাদা আলাদা নাম্বার নির্ধারিত। প্রথম ধাপে হবে অনলাইনে লিখিত পরীক্ষা, যেখানে নেগেটিভ মার্কিং থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাই করা হবে এবং সবশেষে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব ও যোগাযোগ ক্ষমতা যাচাই করা হবে ইন্টারভিউতে। সব ধাপের নাম্বার যোগ করেই তৈরি হবে চূড়ান্ত ফলাফল।
এক্সাম প্যাটার্ন:
- Tier-I (অনলাইন লিখিত পরীক্ষা): ১০০ নাম্বার, সময় ২ ঘণ্টা, নেগেটিভ মার্কিং ¼ নাম্বার।
- Tier-II (স্কিল টেস্ট): ব্যবহারিক ও টেকনিক্যাল পরীক্ষা, মোট ৩০ নাম্বার।
- Tier-III (ইন্টারভিউ/পার্সোনালিটি টেস্ট): মোট ২০ নাম্বার।
আরো পড়ুন: IB সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পরীক্ষার প্যাটার্ন!
IB JIO এক্সাম সিলেবাস
এই পরীক্ষায় প্রার্থীদের মূলত দুটি দিক থেকে যাচাই করা হবে, সাধারণ দক্ষতা (যেমন রিজনিং, গণিত, অ্যানালিটিক্যাল এবিলিটি) এবং টেকনিক্যাল জ্ঞান (যেমন ফিজিক্স, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ইত্যাদি)। তাই যারা পরীক্ষায় বসবেন, তাদের জন্য সাধারণ প্রস্তুতির পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ধাপে ধাপে সেকশন অনুযায়ী সম্পূর্ণ সিলেবাস দেওয়া হলো।
সেকশন ভিত্তিক সিলেবাস:
| Section | Syllabus Topics |
|---|---|
| Reasoning Ability | আলফানিউমেরিক সিরিজ, দিক ও দূরত্ব, ব্লাড রিলেশন, অ্যানালজি, ডাটা সাফিসিয়েন্সি, কোডিং-ডিকোডিং, কিউব ও ডাইস, অ্যারিথমেটিক রিজনিং, ডিসিশন মেকিং, ক্লক ও ক্যালেন্ডার রিজনিং, নাম্বার সিরিজ, এমবেডেড ফিগার, সিলোজিজম, ক্লাসিফিকেশন, অর্ডার ও র্যাঙ্কিং, প্যাটার্ন কমপ্লিশন |
| Quantitative Aptitude | গড়, মিশ্রণ ও অলিগেশন, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সময় ও কাজ, টাইম-স্পিড-ডিস্ট্যান্স, সরল ও চক্রবৃদ্ধি সুদ, নাম্বার সিস্টেম, HCF ও LCM, ডিসকাউন্ট, সিম্প্লিফিকেশন |
| Physics | মেকানিক্স, সার্কুলার মোশন, এনার্জি ও মোমেন্টাম, গ্রাভিটি, ফ্লুইড মেকানিক্স, অস্কিলেশন ও ওয়েভস, থার্মাল ফিজিক্স, থার্মোডাইনামিক্স, ইলেকট্রিসিটি ও ম্যাগনেটিজম, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন, ওয়েভ ও অপটিক্স, কোয়ান্টাম ফিজিক্স, অ্যাটমিক ও নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, রিলেটিভিটি |
| Mathematics | অ্যালজেব্রা, ট্রিগনোমেট্রি, জ্যামিতি, সিরিজ ও প্রগ্রেশন, ম্যাট্রিক্স ও ডিটারমিন্যান্ট, ভেক্টর অ্যালজেব্রা, কমপ্লেক্স নাম্বার, ক্যালকুলাস (ডিফারেনশিয়েশন ও ইন্টিগ্রেশন), প্রোবাবিলিটি, স্ট্যাটিস্টিক্স, পারমুটেশন ও কম্বিনেশন |
| Digital Electronics | লজিক গেটস (AND, OR, NOT, NAND, NOR, XOR), বুলিয়ান ফাংশন, কার্নো ম্যাপ, নাম্বার সিস্টেম, ROM, RAM, প্রোগ্রামেবল লজিক ডিভাইস, অ্যাডার, সাবট্র্যাক্টর, কমপ্যারেটর |
| Electrical Engineering | কারেন্ট, ভোল্টেজ, রেজিস্ট্যান্স, ইন্ডাক্ট্যান্স, ক্যাপাসিট্যান্স, ট্রান্সফরমার, ট্যাঙ্ক সার্কিট, সিগন্যাল জেনারেটর, স্টার-ডেল্টা কানেকশন, CRO, পাওয়ার প্লান্ট (থার্মাল, সোলার), ইলেকট্রিক ওয়েল্ডিং, পাওয়ার জেনারেশন ইকোনমিক্স |
| Computer Science | কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস, মেমোরি ও স্টোরেজ ডিভাইস, উইন্ডোজ ও MS Office (Word, Excel), নেটওয়ার্ক (TCP/IP, OSI মডেল, টপোলজি), ইন্টারনেট, শর্টকাট কী, সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার, ভাইরাস ও সিকিউরিটি |
পশ্চিমবঙ্গে এক্সাম সিটি কতগুলি আছে?
IB JIO পরীক্ষার প্রথম ধাপ অনলাইনে দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা আবেদন করার সময় নিজেদের সুবিধামতো সর্বোচ্চ পাঁচটি শহরকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। তবে একবার শহর বেছে নেওয়ার পর তা পরিবর্তন করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীদের জন্যও একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহজে অংশগ্রহণ করা যায়।
পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষাকেন্দ্র:
- কলকাতা
- সিলিগুড়ি
- আসানসোল
- দুর্গাপুর
- বর্ধমান
- কল্যাণী
এই ব্লগে প্রকাশিত সমস্ত তথ্য কেবলমাত্র শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। এখানে দেওয়া সিলেবাস, পরীক্ষার ধাপ বা নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রস্তুত, তবে সময়ে সময়ে কর্তৃপক্ষ পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে। তাই প্রার্থীদের সর্বদা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সরকারি বিজ্ঞপ্তি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জয়েন্ট করুন: কর্মসংবাদ ফেসবুক চ্যানেল | WBCareer ফেসবুক চ্যানেল